Showing posts with label ত্বকের যত্ন. Show all posts
Showing posts with label ত্বকের যত্ন. Show all posts

টোনার তৈরির ঘরোয়া উপায়

ঘরোয়া টোনার তৈরির পদ্ধতি

কোমল ও মসৃণ ত্বক সবারই কাম্য আর সেই সাথে ত্বকের উজ্জ্বলতা আপনার সৌন্দর্যকে আরও বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। তবে এই গরমের প্রকোপ ও সারাদিনের ব্যস্ততার মাঝে ত্বকের সেই লাবণ্য ক্রমশ মলিন হয়ে উঠে। তাই ঘরোয়া পদ্ধতিতে নিজেই ত্বকের যত্ন নেয়া শুরু করে দিন।

প্রাকৃতিক উপায়ে সহজ কিছু পন্থায় আপনি ঘরে বসেই তৈরি করে নিতে পারেন আপনার স্কিন টোনার।

১। একটি শশা কুচি করে কেটে তার সাথে ১/২ কাপ টক দই মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিন। তা মুখে লাগিয়ে ৫-১০ মিনিটের জন্য রেখে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি ফ্রিজে রেখে আপনি ২-৩দিন  ব্যবহার করতে পারেন।

  ২। ১ লিটার গরম পানিতে পুদিনা পাতা ছেড়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। তারপর পানি ছেঁকে নিয়ে তা ঠাণ্ডা হতে দিন। তুলার সাহায্যে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এটি ত্বক পরিষ্কার করে ও টোনার হিসেবেও কাজ করে।

৩। গোলাপ জল খুবই উত্তম টোনার হিসেবে কাজ করে। ১/২ লিটার পানিতে ৫টি ডিস্টিল ওয়াটার ও ৮টি গোলাপের পাপড়ি মিশিয়ে অল্প আঁচে জ্বাল করুন। যখন পানিটি প্রায় বেগুনি রঙ ধারণ করবে তখন চুলা থেকে নামিয়ে নিন। ঠাণ্ডা করে পানিটি ছেঁকে নিন। এভাবে গোলাপ জল তৈরি করে আপনি এক মাস ফ্রিজে রেখে সংরক্ষণ করতে পারেন। প্রতিদিন ২-৩ বার আপনি এটি ব্যবহার করতে পারেন।

৪। সমপরিমাণ ভিনেগার ও গোলাপ জলের মিশ্রণ তৈরি করেও আপনি টোনার হিসেবে লাগাতে পারেন। টোনার হিসেবে এই মিশ্রণ খুবই উপকারী।

৫। টোনার হিসেবে বরফের ব্যবহার অতি পরিচিত। প্রতিদিন সকালে ও রাতে মুখ ধুয়ে নিয়ে আপনি ৩-৪ টুকরো বরফ ঘষে নিতে পারেন। বরফ আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে আর সেই সাথে খোলা লোমকূপ বন্ধ করে দেয়। ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করতেও আপনি বরফ ব্যবহার করতে পারেন।

৬। একটি গ্রীন টি প্যাক ১/২ কাপ পানিতে ১০ মিনিটের জন্য ভিজিয়ে রাখুন। তারপর পানি ছেঁকে নিন। রোজ সকালে আপনি এই পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন। কেবল টোনার নয়, এটি আপনার ত্বককে সারাদিনের জন্য কোমল ও সতেজ রাখবে।

৭। লেবুর রস মুখে ঘষে ১০ মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৮। ১/৪ চামচ অলিভ অয়েল, ১/৪ চামচ লেবুর রস ও ১ চামচ মধুর মিশ্রণ তৈরি করে মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর কুসুম গরন পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৯। মুখ ভালো করে ধুয়ে নিয়ে ডিমের সাদা অংশ লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি মুখের দাগ দূর করতেও কাজ করে। প্রতি রাতে শোবার আগে আপনি এটি ব্যবহার করতে পারেন।

১০। ১ চামচ দুধ, ১ চামচ মধু ও একটি ডিম নিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। ১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখার পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতি সপ্তাহে ২ দিন আপনি প্যাকটি লাগাতে পারেন।

১১। ৩ চামচ টমেটোর রস ও ১ চামচ মধু মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

১২। মধু ও লেবুর মিশ্রণ খুবই জনপ্রিয় টোনার হিসেবে কাজ করে।এই প্যাকটি আপনার ত্বককে মসৃণও করে তুলে।

১৩। পেঁপে ও আপেল একসাথে ব্লেন্ড করে আপনি টোনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

রাতে কিভাবে ত্বকের যত্ন নিবেন,,,

রাতে ত্বকের যত্ন

সারাদিনের ধুলাবালি, দূষণ, রোদ ইত্যাদি ত্বকের অনেক ক্ষতি করে। তাছাড়া ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ঠিক মতো সানস্ক্রিন ব্যবহার না করা, অথবা মেইকআপ পরিষ্কার না করার কারণে রোদে পোড়া দাগ, ব্রণ, ফুসকুড়ি, বলিরেখা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তারুণ্য ধরে রাখতে চাইলে দিন শেষে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সহজ কিছু পরিচর্যা করলেই পাওয়া যাবে সুন্দর ত্বক। রূপচর্চাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

সাধারণ ও অল্প কিছু যত্নেই রাত শেষে সুন্দর ত্বক লাভের উপায় জানান— ম্যানহ্যাটন বিচ, ক্যালিফর্নিয়ার ত্বক বিশেষজ্ঞ অ্যানি চিউ।

মেইকআপ রিমুভার ব্যবহার

রাতে ঘুমানোর সময় যদি ত্বকে অল্প পরিমাণেও মেইকআপ থাকে তাহলে তা লোমকূপ বন্ধ করে দেয়। ফলে ত্বকে সমস্যা দেখা দেয় পাশাপাশি বয়সের ছাপও পড়ে তাড়াতাড়ি। তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে জরুরি হল মেইকআপ পরিষ্কার করা। আর ভালো মানের মেইকআপ রিমুভার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করলে ত্বকের বজায় থাকবে।

নিয়মিত ত্বক এক্সফলিয়েট করা

ত্বকের উপরে ধুলাময়লা জমে অথবা মৃত কোষের স্তরের কারণে ত্বক ম্লান হয়ে যায়। তাই ত্বক স্ক্রাব করা বা এক্সফলিয়েট করা প্রয়োজন। বাজারে যে সব দানাদার এক্সফলিয়েটর পাওয়া যায় সেগুলো প্রতিদিন ব্যবহার করার ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই হালকা এবং ময়েশ্চারাইজার সমৃদ্ধ এক্সফলিয়েটর বা স্ক্রাব বেছে নেওয়া যেতে পারে।

এক্ষেত্রে চিউয়ের পরামর্শ হচ্ছে, এমন এক্সফলিয়েটর বেছে নিতে হবে যেটাতে গ্লাইকলিক অ্যাসিড রয়েছে।

ঘুমানোর আগে ত্বকের জন্য তেল

সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি ত্বকে আলাদা ঝকমকে ভাব চান তাহলে এর জন্য আদর্শ হল ফেইশল অয়েল। যে কোনো নাইট ক্রিমের চেয়ে ত্বকের জন্য বিশেষভাবে তৈরি তেলগুলো বেশি কার্যকর। টানা কিছুদিন রাতে ত্বকে ‘নাইট ওয়েল’ ব্যবহার করলে ত্বকের রং উজ্জ্বল হয়।

তেল এড়িয়ে চললে নাইট ক্রিম ব্যবহার

রাতে ঘুমের সময় ত্বক সারাদিনের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়। তাই এই সময় ভালো মানের প্রসাধনী ব্যবহার করা প্রয়োজন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে ফেইশল অয়েল ব্যবহার না করতে চাইলে ভালো ও ত্বক উপযোগী একটি নাইট ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।

নাইট ক্রিম ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখার পাশাপাশি এক্সফলিয়েট করতেও সাহায্য করে।

রাতে মাস্ক ব্যবহার

চিউ বলেন, “রাতে ঘুমানোর সময় ত্বকের কোষগুলো পুনর্গঠন হয়। তাই রাতে ত্বকে মাস্ক ব্যবহার করা হলে বাড়তি পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে।”

বলিরেখা দূর করার টিপস্,,,সহজেই দূর করুন আপনার মূখের বলিরেখা,,,

বলিরেখা কি ও বলিরেখা দূর করার উপায়


এক কথায়  বয়সের লক্ষণ প্রকাশ করে ত্বকের যে ভাঁজগুলো, তাদেরকেই বলিরেখা বলি আমরা।
চামড়াকে টান টান করে ধরে রাখতে সাহায়তা করে কোলাজেন নামক যে প্রোটিন,বয়স বাড়তে থাকলে যা ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। ফলে ত্বক পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। চামড়ার যে স্থিতিস্থাপকতা সেটি আসে ইলাস্টিন থেকে এবং সেটি আর্দ্রতা ধরে রাখতেও সহায়তা করে। বয়স বাড়ার প্রতিক্রিয়ায় এই দুটি উপাদান ক্ষয় হয় বা পরিমাণে হ্রাস পায়। এর ফলে ত্বকে দেখা দেয় শুষ্ক ভাব, গড়ে উঠে ভাঁজ- যাকে সাধারণভাবে বলিরেখা বলা হয়ে থাকে।

তবে কেবল বয়সের কারণেই যে বলিরেখা পরে, সেটাও নয়। অসুস্থতা, পরিবেশ দূষণ, ধূমপান, মদ্যপান, রোদে সুরক্ষা ব্যবহার না করা, অস্বাস্থ্যকর ডায়েট, এলোমেলো জীবন যাপন ইত্যাদি অনেক কিছুই তরান্বিত করে ত্বকে বলিরেখার আগমনকে।
১. কারা বেশি বলিরেখা সমস্যায় পড়ে?

পুরুষের চেয়ে মহিলাদের মুখে এবং ঠোঁটের চারপাশে বেশি বলি রেখা পড়ে। ঠোঁটের চারপাশে এরকম বলি রেখা কে perioral wrinkle বলা হয়। নেদারল্যান্ড এর এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে পুরুষের ঠোঁটের চারপাশে sweat gland বেশি এবং মুখে circulation বেশি হয়। তাই ঠোঁটের কাছে পুরুষের বলিরেখা মেয়েদের চেয়ে কম পড়ে।

২. বলিরেখার প্রধান কারণঃ

অনেকেই মনে করেন যে বলিরেখার প্রধান কারণ বয়স। অর্থাৎ যার বয়স বাড়তে থাকবে তার শুধু মাত্র বলিরেখা থাকবে। কিন্তু এটা ভুল ধারণা। বলিরেখার প্রধান কারণ হল সূর্যের ক্ষতিকর বেগুনি রশ্মি। বলিরেখা থেকে রক্ষা পেতে চাইলে প্রতিদিন এমন সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন যেটাতে অন্তত SPF 30 আছে যা আপনার ত্বক কের UVA আর UVB থেকে রক্ষা করবে।

৩. কত বছর বয়স থেকে সতর্ক হবেন?

বেশিরভাগ মানুষের ধারণা ৩০ বছরের পর থেকে বলিরেখা যেন না পড়ে সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কিন্তু এটাও একটা ভুল কথা। ২০ বছর বয়স থেকেই বলিরেখার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে মেয়েদের। সানস্ক্রিন এর ব্যবহার হল best anti-aging treatment, তাই ২০ বছর বয়স থেকেই retinoids আর topical antioxidant ব্যবহার করা শুরু করতে হবে।

৪. মুখের বিভিন্ন ভঙ্গীঃ

সব সময় আড় চোখে দেখা, ভ্রু আর কপাল কুঁচকে তাকানো, অতিরিক্ত হাসি সহ ঘন ঘন বিভিন্ন facial expression এর কারণে মুখে বলিরেখা দেখা দিতে পারে। অনেকেই না বুঝে নিজে নিজেই বিভিন্ন মুখের ব্যায়াম করে মুখের ত্বক ঠিক রাখার জন্য। কিন্তু এ ধরণের ব্যায়াম কখনই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ আর instruction ছাড়া করা উচিত নয়। হয়ত নিজেকে young দেখাতে চেষ্টা করতে গিয়ে আপনি ভুলে আপনার মুখে বলি রেখা পড়ার রাস্তা সহজ করে দিচ্ছেন।

৫. কি প্রোডাক্ট ব্যবহার করবেন? যে প্রোডাক্ট গুলো তে retinoids, alpha- hydroxyl acids, azelaic acid আছে সেগুলো ব্যবহার করবেন। এগুলো ত্বক কে বলিরেখার হাত থেকে রক্ষা করে। এগুলোর মধ্যে azelaic acid আর alpha- hydroxyl acid হল natural based acid. ৬. Age spot:

Age spot কে অবহেলা করবেন না। Age spot দেখা দিলে সাবধানে থাকুন। কারণ Age spot স্কিন ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। ত্বকে যে কোন পরিবর্তন আসলে dermatologist অর্থাৎ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখান। Non-cancerous spot সাধারণত skin-bleaching প্রোডাক্ট গুলোর মাধ্যমে হালকা করা যায়।

৭. ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুনঃ

আপনার ত্বকে বলিরেখা দেখা দিলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। ময়েশ্চারাইজার আপনার ত্বক কে শুষ্ক হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবে আর ত্বক যত কম শুষ্ক থাকবে তত কম বলিরেখা বোঝা যাবে। তবে অবশ্যই সব সময় ভাল ব্র্যান্ডের পণ্য ব্যবহার করবেন।

৮. ভুল ধারণাঃ

এটা একটা ভুল ধারণা যে শুধু খুব কড়া রোদের জন্যই বলিরেখা পড়বে। সূর্যের আলো গায়ে পড়বে এমন ভাবে বাড়ি থেকে বের হলে তখন অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। এমন কি আপনার প্রাইভেট কার এ করে কোথাও যাওয়ার সময় গ্লাসের ভেতর দিয়ে UVA রশ্মি আপনার ত্বকের ক্ষতি করবে। তাই বাড়ির বাইরে বের হলেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

৯.ঠিক মত মেকআপ না তোলাঃ

মেইকআপ করার পর সেটি সঠিকভাবে পরিষ্কার করাও জরুরি। কারণ রাতে ঘুমানোর আগে ত্বকে যদি মেইকআপ থাকে তাহলে তা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। মেইকআপ ত্বকের লোমকূপ ও কোলাজেন-কে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ত্বকের ভারসাম্যতা নষ্ট করে। ফলে ত্বকে ভাজ পড়া এবং বুড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। তাই মেইকআপ করার পর ঘুমানোর আগে তা সঠিকভাবে পরিষ্কার করলে ত্বকে ভাঁজ পড়ার প্রবণতা কমবে।

১০. মেকআপের সময় ত্বক টানাঃ

মেইকআপ করার সময় গালে অতিরিক্ত ঘষামাজা করা হলে এবং ত্বকে যদি অনিয়মিত টান পড়ে তাহলে ত্বকে সময়ের আগেই বলিরেখা পড়তে পারে। তাই বলিরেখা এড়াতে হালকাভাবে মেইকআপ করাই ভালো।

টিপসঃ
বলিরেখা ঠেকাতে পারে যে দ্রব্য, তার নাম অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। সুতরাং বলিরেখা থেকে মুক্তি পেতে আপনাকে সেই সকল খাদ্য বেছে নিতে হবে যাতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে প্রচুর পরিমাণে। দেয়া হলো সেই সকল খাবারেরই তালিকা-
অভ্যাস করুন তাজা ফল খাবার। ক্যারোটিনসমৃদ্ধ ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যেমন- পাকা কলা, পাকা পেঁপে, পাকা আম, পাকা পেয়ারা, লাল তরমুজ, বেদানা ইত্যাদি। বেছে নিন ক্যারোটিন সমৃদ্ধ রঙিন ফল।
শাকসবজিতেও থাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। আমাদের একান্ত পরচিত সবজি গুলোই, যেমন-পালংশাক, লাউশাক, ঢেঁড়স, গাজর, বাঁধাকপি, পাকা কুমড়া, টমেটো, ক্যাপ্সিকাম ইত্যাদিতে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ক্যান্সার প্রতিরোধকারী লাইকোপিন নামে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায় টমেটো এবং তরমুজে। ত্বকের সুস্থতা এবং সজীবতা ধরে রাখতে টাটকা শাকসবজি এক অব্যর্থ ওষুধ। শসাও উপকারী তারুণ্য ধরে রাখতে। আছে ভিটামিন ‘সি’ ও ‘ই’ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড।
ডাবের পানি খাবার অভ্যাস করুন কোমল পানীয়ের পরিবর্তে। ডাবের পানি তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়ক।
খান দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার। যেমন দই, ছানা, পনির ইত্যাদি। ডিমও রাখতে হবে খাদ্য তালিকায়।
প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খান। আমাদের শরীরে প্রতিনিয়ত যে ক্ষয় হয়, বয়সের যে পরিবর্তন আসে তা মূলত অক্সিডেশনের জন্য। ভিটামিন সি’তে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা কোষাবরণকে মজবুত করে, সহজে ভেঙে যেতে দেয় না। লেবু, কাচা মরিচ, টক জাতীয় যে কোনও ফল ভিটামিন সি এর চমৎকার উৎস।
রোজ খান বাদাম জাতীয় ফল। চিনাবাদাম, কাজুবাদাম, কাঠ বাদাম, পেস্তা বাদাম, আখরোট ইত্যাদি বাদাম খুবই উপকারী বলিরেখা ঠেকাতে। এগুলো ‘ই’ সমৃদ্ধ। চামড়া মসৃণ রাখতে কাজে আসে অনেকখানি।
বেরি জাতীয় রসালো ফলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা চামড়ার জন্য উপকারী। যেমন স্ত্রবেরী, আঙ্গুর, ব্লু বেরী ইত্যাদি। কিসমিসেও তাই মিলবে এই পদার্থ
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এর সমৃদ্ধ উৎস হিসেবে সবুজ চা অতুলনীয়। দৈনিক অন্তত ২ কাপ সবুজ চা বা গ্রিন টি পান করুন।
সকালে খালি পেটে ঘৃতকুমারীর রস পান করা ভালো। চামড়ার ভাঁজ কমে আসে।
তিল ও সূর্যমুখীর বীজেও আছে প্রচুর ভিটামিন ই। নিয়মিত খেলে উপকার পাবেন।
মাংস খাওয়া পরিহার করে মাছ খান প্রচুর।

ঘৃতকুমারী বা এলোভেরার মাধ্যমে ত্বকের যত্ন,,

ঘৃতকুমারীর  ব্যবহার


ঘৃতকুমারী যেমন রূপচর্চায় বেশ উপকারী একটি উদ্ভিদ তেমনি স্বাস্থ্য রক্ষায়ও এর বেশ ভূমিকা রয়েছে। বিভিন্ন কারণে ঘৃতকুমারীর পাতা ও শাঁস ব্যবহার করা হয়।
আদ্রতা ধরে রাখতে ঘৃতকুমারীর পাতার কোন জুড়ি নেই। এটি পর্যাপ্ত আদ্রতা ধরে রাখার মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ত্বকের নিশ্চয়তা দেয়। ক্লিনজার হিসাবে ঘৃতকুমারী বেশ উপকারী। এটি ত্বককে নরম, কোমল ও উজ্জ্বল করে।
বয়সের সাথে সাথে আমাদের ত্বকে বলিরেখা পড়ে। এসব দূর করতে ঘৃতকুমারী বেশ উপকারী। তাই বলিরেখা দূর করে ত্বকে তারুণ্যের দীপ্তি ফিরিয়ে আনতে চাইলে নিয়মিত ঘৃতকুমারী ব্যবহার করতে পারেন।
শীতকালে পায়ের গোঁড়ালি ফাঁটা খুব সাধারণ একটি সমস্যা। পায়ের গোঁড়ালি ফাঁটা বা ফাঁটা দাগ দূর করতে কয়েক ফোটা ঘৃতকুমারীর রসই যথেষ্ট। কয়েক ফোঁটা ঘৃতকুমারীর রস নিয়ে ফাঁটা জায়গায় ম্যাসাজ করতে হবে। তবে খুব জোড়ে ঘষা যাবে না।
ঠোঁটের ত্বক, মুখের ত্বকের তুলনায় অনেক কোমল হয়। তাই দূষণের কারণে ঠোঁট চুপসে যেতে পারে। ঠোঁটের সঠিক যত্নে ঘৃত কুমারী ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে ঠোঁটে কয়েক ফোঁটা ঘৃতকুমারীর রস লাগান। এতে ঠোঁট নরম ও উজ্জ্বল হবে।

রোদে পোড়া বা ব্রণের সমস্যায় ও ঘৃত কুমারী বেশ উপকারী।

এতোক্ষণ তো রূপচর্চার কথা বললাম। এখন, স্বাস্থ্য রক্ষায় ঘৃতকুমারীর ব্যবহারে আসা যাক। ঘৃতকুমারীর রস যকৃতের জন্য বেশ উপকারী। নিয়মিত ঘৃতকুমারীর রস পান করলে পরিপাক প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। এটি শরীরে শক্তি যোগায়, ওজন ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ঘৃতকুমারীর রস ডায়রিয়ার জন্য বেশ উপকারী। দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখতেও এর বেশ ভূমিকা রয়েছে। ঘৃতকুমারীর রস শ্বেত কণিকা বৃদ্ধি করতে এবং ভাইরাস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

এলভেরার জাদুকরি রহস্য

আমরা অনেকেই শখ করে বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় বিভিন্ন ফুল ফল বা ভেষজ উদ্ভিদ লাগিয়ে থাকি। এর মধ্যে ” অ্যালভেরা” বা ঘৃতকুমারী গাছ থাকবেই। কিন্তু আমরা কি জানি যে এই ছোট্ট গাছটির নানা ইতিহাস ও আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কত উপকার করে? মানব দেহের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সকল ক্ষেত্রেই অ্যালভেরার রয়েছে জাদুকরী গুনাগুণ। আসুন অজ্ঞতায় না থেকে জেনে নিই।
মিশরীয় লোককাহিনী থেকে জানা যায়, সৌন্দর্যবর্ধন করে যে প্রকৃতিকন্যা তার লাতিন নাম অ্যালোভেরা ওরফে ঘৃতকুমারী। আর এটাই হলো মিশরের টলেমি রাজবংশের সম্রাজ্ঞী, কূটনীতিক ও পরে সীজার পত্নী ক্লিওপেট্রার ত্বকের সৌন্দর্যের গোপন রহস্য। স্বাস্থ্য এবং সৌন্দর্যে অ্যালোভেরার ব্যবহার আজকের নয়। প্রাচীন কালেও রানী ক্লিওপেট্রা, সম্রাট আলেকজান্ডার, বাদশাহ সোলায়মান, নেপোলিয়ন এবং ক্রিস্টোফার কলম্বাসের মত বিখ্যাত মানুষেরা অ্যালোভেরা ব্যবহার করতেন। ঘৃতকুমারী গাছটা দেখতে অনেকটাই কাঁটাওয়ালা ফণীমনসা বা ক্যাকটাসের মতো। অ্যালোভেরা ক্যাক্টাসের মত দেখতে হলেও, ক্যাক্টাস নয়। এর পাতাগুলো বর্শা আকৃতির লম্বা, পুরু ও মাংসল। তরুটির রং সবুজ যার মাঝে রয়েছে রহস্যময় গুণ যার গুণকীর্তন করে কোটি ডলার কামিয়ে নিচ্ছে পাশ্চাত্য, প্রাচ্য দেশীয় তরু থেকে।
গোটা বিশ্ব জুড়ে এই গাছের জুস বা রস ক্যাপসুল বা জেলের আকারে বিক্রি হচ্ছে। এই জেলের ভেতরে আছে বিশটি অ্যামিনো অ্যাসিড যা থেকে বিজ্ঞানীরা বলেন প্রাণের সৃষ্টি। এই ২০ অ্যামিনো অ্যাসিডের আটটি দেহের মাঝে তৈরি হয় না। এটা বাইরে থেকে খাদ্যের আকারে গ্রহণ করতে হয়। এটা আসে ঘৃতকুমারী থেকে।
মেছতা দূর করার আরেকটি উপাদান হলো এলোভেরা বা ঘৃতকুমারী পাতার জেল। এই জেলের রয়েছে ত্বকের যাবতীয় সমস্যা দূর করার ক্ষমতা। আক্রান্ত স্খানে আঙুলের ডগার সাহায্যে ধীরে ধীরে জেল ঘষে লাগাতে হবে এবং সারা রাত লাগিয়ে রাখতে হবে। এভাবে কয়েক সপ্তাহ লাগালে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে। এ ছাড়া অ্যালোভেরা জেলের সাথে ভিটামিন ই এবং প্রিমরোজ অয়েল মিশ্রিত করে লাগালে এক সপ্তাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যাবে। একই সাথে জেলের শরবত খেলে ভালো হবে।
অ্যালভেরাতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ই, ফলিক এসিড,বি ১, বি ২, বি ৩, বি ১২। প্রায় ২০ রকমের মিনারেলস যেমন ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, সোডিয়াম,আয়রন পটাসিয়াম, কপার ইত্যাদি। মানবদেহের জন্য ২২টি অ্যামিনো এসিড প্রয়োজন আর এর মধ্যে ৮ টি উপাদান থাকা অনস্বীকার্য। প্রধান ৮ টি উপাদানসহ আনুমানিক ২০ টি অ্যামিনো এসিড অ্যালভেরায় বিদ্যমান।
মানবদেহের টিস্যু নিষ্প্রাণ হয়ে গেলে, ত্বকে ফুসকুড়ি উঠলে এলভেরার জেল খুবিই উপকারী। যাদের এলার্জির সমস্যা তীব্র তারা ১ মাস নিয়মিত অ্যালভেরার শরবত খেয়ে দেখুন, জাদুকরী ফল পাবেন।
নতুন চুল গজানোর জন্য অ্যালভেরার রস নারিকেল তেলের সাথে মিশিয়ে মাথার ত্বকে ম্যাসেজ করে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন, সপ্তাহে ২ বার করে ২ মাস। পরিবর্তন নিজেই লক্ষ করতে পারবেন। এ ছাড়াও অ্যালভেরার রস চুল কে কন্ডিশনিং করে মোলায়েম হতে সাহায্য করে যা অনেকদিন স্থায়ী থাকে। খুশকি দূর করতে এটি প্রহরীর মত কাজ করে। এটি রক্তের কলেস্টরেল দূর করতে সাহায্য করে।

ফর্সা, উজ্জ্বল, ঝলমলে চেহারা পেতে যা যা দরকার,,,

ফর্সা, উজ্জ্বল, ঝলমলে চেহারা পেতে

সারাদিন শত কাজের ব্যস্ততায় থাকতে থাকতে ত্বকের অবস্থা একেবারে খারাপ হয়ে যায়। সারাদিনের কাজের ক্লান্তি, রোদের তীব্রতা এবং ধুলোবালির ছাপ পড়ে যায় ত্বকে। মাত্র ১৫ মিনিট ব্যয় করে ত্বকের উজ্জলতা আনতে পারবেন খুব সহজে। ত্বকও হবে নরম ও কোমল। ফর্সা, উজ্জ্বল, ঝলমলে চেহারা পাওয়ার দুটি পদ্ধতি। প্রথম পদ্ধতিঃ 

– একটি বাটিতে ১ টি ডিমের সাদা অংশ নিন

– এতে ২ টেবিল চামচ তাজা লেবুর রস দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন

– মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে নিয়ে গরম পানির ভাপ নিন ৩/৪ মিনিট।

– এরপর ডিম ও লেবুর মাস্কটি লাগান ত্বকে।

– ১০-১২ মিনিট পরে কুসুম গরম পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে মুছে ফেলুন। ফিরিয়ে আনুন ত্বকের শুভ্রতা ও উজ্জলতা।

দ্বিতীয় পদ্ধতিঃ

– একটি বাটিতে ১ টেবিল চামচ ময়দা নিন।

– এতে ১ টেবিল চামচ মধু এবং পরিমাণ মতো দুধ দিয়ে মিশিয়ে পেস্টের মতো তৈরি করুন

– খুব ভালো করে মেশাবেন, পেস্টটি যেন একটু পাতলা ধরণের হয়।

– এরপর এই পেস্টটি একটি ব্রাশের সাহায্যে মুখ ও গলার ত্বকে লাগান। চাইলে হাতে ও পায়েও লাগাতে পারেন।

– ১৫ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে মাস্কটি ধুয়ে ফেলুন।

– সামান্য ময়েসচারাইজার লাগিয়ে নিন

– দেখবেন কি সুন্দর উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে মুখের ত্বক।